দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে চলমান বা আসন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলোতে এখনই বাড়তি সুবিধা পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না কারও।
সম্প্রতি সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। এর প্রেক্ষিতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সরকার কোনো কিছুরই অপব্যবহার করবে না। সব মানুষের জন্য যেটা সুবিধাজনক এবং কল্যাণকর, শেষ পর্যন্ত সেটাই করা হবে। বর্তমান সরকার সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে এবং প্রতিটি বিষয়ে তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে নম্বর পরিবর্তনের গুঞ্জন ছড়ালেও কোনো ধরনের অনৈতিক বা বিশেষ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ কারও নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিয়োগ বিধিমালা সংস্কারের অংশ হিসেবে একটি খসড়া প্রস্তাব প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে নীতিগত অনুমোদন পেলেও তা এখনো চূড়ান্ত বা গ্যাজেট আকারে প্রকাশ করা হয়নি। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা ভাইভার নম্বর বাড়ানোর এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা বজায় রাখার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, ভাইভার নম্বর অতিরিক্ত বাড়ানো হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে।তবে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, পুরো প্রক্রিয়াটি এখনো পর্যালোচনাধীন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়া আগের নিয়মেই নিয়োগ পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হবে। দুর্নীতি বন্ধ এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থায় বর্তমানে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে একেক ধরনের পরীক্ষাপদ্ধতি ও নম্বর বণ্টন চালু রয়েছে। কোথাও লিখিত পরীক্ষার তুলনায় মৌখিকের নম্বর কম, আবার কোথাও লিখিত ও মৌখিকের নম্বর প্রায় সমান।
এ ব্যবস্থায় সামঞ্জস্য আনতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরাসরি নিয়োগের জন্য অভিন্ন নম্বর বণ্টনের একটি বিশেষ বিধিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। নতুন বিধিমালায় মূলত মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হবে। এরই মধ্যে বিধিমালার খসড়া সরকারের সংশ্লিষ্ট কমিটিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে সরাসরি নিয়োগে অবৈধ অর্থের লেনদেন, প্রভাব খাটানো ও আনুকূল্য দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব সামনে আসায় জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ মনে করছেন, মৌখিকের ওজন বাড়লে নিয়োগে অনিয়মের সুযোগও বাড়তে পারে।
বিশেষ করে লিখিত পরীক্ষায় মেধার ভিত্তিতে এগিয়ে থাকা প্রার্থীর সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষায় বড় ব্যবধান তৈরি করার সুযোগ থাকায় এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সরকার বলছে, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার নিয়োগ পরীক্ষায় সামঞ্জস্য আনা, প্রক্সি ও প্রযুক্তিনির্ভর অসদুপায় ঠেকানো এবং প্রকৃত যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা। আর চূড়ান্ত বিধিমালা প্রণয়নের আগে এখনো আরও প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে।
তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর আলোচনা প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নেওয়া হয়। সবগুলো পরীক্ষাকে একটি ব্যবস্থার মধ্যে আনার জন্য আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কিছু হয়নি।
মো. আব্দুল বারী বলেন, ‘বিভিন্ন বিভাগ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নেয়। সবগুলো পরীক্ষা একসঙ্গে করে একটা সিস্টেমে আনার জন্য একটা চিন্তা করা হচ্ছে, এটাই। ফাইনাল কিছু এখনো হয়নি।
কে